
স্টাফ রিপোার্টার: চেক চুরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: ফিরোজ আলম।
মামলার এজাহার ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, মামলার ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের ইউসুফ আলীর স্ত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মীয় মরিয়ম বেগমের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে তাঁর সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দারগঞ্জ শাখার হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা একটি চেক চুরি করে নিয়ে যান অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার। পরে ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা উল্লেখ করে মরিয়ম বেগমের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
তবে চেকের স্বাক্ষরে অসংগতি ও সন্দেহ দেখা দেওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গ্রাহককে অবহিত করে।
এ ঘটনায় মরিয়ম বেগমের স্বামী ইউসুফ আলী বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সিআইডির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় চেকে থাকা স্বাক্ষর মরিয়ম বেগমের নয় বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। পরীক্ষার ফলাফলে স্বাক্ষরটি হুমায়ুন কবির হাওলাদারের বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার ধারাবাহিকতায় রবিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদ পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুনানিতে বাদীপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: ফিরোজ আলম। বিবাদীপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, সিনিয়র আইনজীবী মো: হাসান ও মিজানুর রহমান মুন্সীসহ অন্যরা।


























