
স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং তাঁর স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চাঁদপুরের উপসহকারী পরিচালক কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য নয়নের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর একটি দল গঠন করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে চৌধুরী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার নামে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকার স্থাবর এবং ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তাঁর নামে মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪০ টাকা।
এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ তাঁর ২০ লাখ ৪ হাজার ৭৪৯ টাকার হিসাব পাওয়া গেছে। ফলে সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ অর্জনের বিপরীতে লুবনার নামে কোনো গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে, তাঁর স্বামী নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি স্বামীর পক্ষে তিনি এসব সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের নিজ নামে ৩৩ লাখ ১৪ হাজার ১৩১ টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৯৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তাঁর নামে মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ৩২৫ টাকা।
এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ তাঁর ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ২৫৪ টাকার হিসাব পাওয়া গেছে। সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তাঁর মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৯ টাকা।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, দায়-ঋণসহ বিভিন্ন খাত থেকে নয়নের গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৭ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নয়ন এসব সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মডেল টাউনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।























