
স্টাফ রিপোর্টার: পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করে আসছে। তাদের এই অসহযোগিতার কারণেই কেউ কেউ ডিসেম্বরে আবার ফিরে আসার সুযোগ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন বিরোধী দল উপস্থিত হয়নি। প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে সবরকমের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই অসহযোগিতার কারণে কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়। যদি বিরোধী দল এই সুযোগটা না দিত, লংমার্চ যদি না করত, তাহলে এই সুযোগটা পেত না।
তিনি বলেন, বিএনপিকে চাপে রেখে বিরোধী দল ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাঁর ভাষ্য, এভাবে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্নভাবে মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে এবং অর্থের মাধ্যমে কিছু ভোট নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ্যানি বলেন, বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি হয়- এমন কোনো সুযোগ বিএনপি ও তারেক রহমানের সরকার মেনে নেবে না। জনগণের জন্য দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পটভূমি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এর জন্য বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে দীর্ঘ সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। ছাত্র, যুবক ও তরুণ-তরুণীদের মাঠের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদেরকে লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ আগস্ট আসেনি। এই ৫ আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণী—তারা মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়।
সংসদে এক কথা, বাইরে আরেক কথা- এ্যানি
এদিন লক্ষ্মীপুরে অপর একটি অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল সংসদে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন করেছে বলে বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, তাদের কেউ কেউ এখন বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে আবার সরে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হওয়ার পেছনে বিরোধী দলের ভূমিকা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর শহরের টাউন হল মিলনায়তনে একই দিন আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে এ্যানি বিরোধী দলের লংমার্চ ও গ্যাস-তেল-বিদ্যুৎ নিয়ে আন্দোলনের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, তেল দে, গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে—নাইলে গদি ছেড়ে দে- ধরনের স্লোগান আগের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় প্রযোজ্য হলেও ছয় মাসের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের স্লোগান মানায় না বলে তিনি মনে করেন।
এ্যানি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমস্যা দীর্ঘদিনের বলে সংসদে স্বীকার করার পরও কেন বাইরে লংমার্চ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কথা বিরোধী দলও বলছে। কিন্তু শুধু বিরোধী দলের পক্ষে দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। সরকার ও বিরোধী দল সবাইকে মিলেই দেশ গড়ার কাজে ভূমিকা রাখতে হবে এবং সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
বিরোধী দলের লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মসূচিতে জ্বালানি খরচ হচ্ছে, সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। এমনকি অসুস্থ রোগীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অপর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার নয় এবং বিরোধী দলও কোনো ‘পালিত বিরোধী দল’ নয়। সবাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি- এ বিষয়টি মনে রেখে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ্যানি আরও বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে অতীতের কোনো পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে চন্দ্রগঞ্জের মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে স্থানীয় রোগীরা চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ড্যাব আয়োজিত এ কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
























