
স্টাফ রিপোর্টার: মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি’এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার প্রত্যয়ে জেলা পুলিশের এ আয়োজন ঘিরে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।
মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং জেলা কমিউনিটি পুলিশের সহযোগিতায় টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, একজন তরুণের হাতে মাদক তুলে দেওয়ার চেয়ে তার হাতে একটি খেলার বল তুলে দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শুধু শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে না, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে। তাই মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলাধুলাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে, একটি তরুণের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে এবং সমাজে অপরাধের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমাদের সন্তানদের মাদক ও অপরাধের অন্ধকার থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক, সমাজের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক এবং পুলিশ- সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, যে মাঠে আজ কাবাডি খেলছে, সেই মাঠেই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরি হবে। তরুণদের মাঠমুখী করতে পারলে তাদের একটি বড় অংশ মাদক ও অপরাধ থেকে স্বাভাবিকভাবেই দূরে থাকবে। জেলা পুলিশ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অথিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম- সেবা বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। একজন কিশোর যখন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকে, তখন তার বিপথে যাওয়ার সুযোগ কমে যায়। তাই প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে এবং তরুণদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই তাদের সঠিক পথে ফেরাতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
টুর্নামেন্টের বালক অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগের ফাইনালে রামগতি উপজেলা ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অন্যদিকে বালিকা অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগের ফাইনালে রামগতি উপজেলা ও সদর উপজেলা মুখোমুখি হয়। এ বিভাগে রামগতি উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ এমরান এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, কাবাডির মতো দেশীয় খেলাকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতেই এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
























