
কারেন্ট জাল মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। অথচ মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এ জাল তৈরির কারখানা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের নয়াগাঁও, মিরেশ্বরাই ও মুক্তারপুর এবং রামপাল ইউনিয়নেও জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানেও পঞ্চসার ও রিকাবীবাজার এলাকায় নিষিদ্ধ জাল উৎপাদনের কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
কারেন্ট জালের উৎপাদন বন্ধ না করে কেবল ব্যবহার, পরিবহন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা মূলত সমস্যার উৎস অক্ষত রাখার শামিল। উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ, যন্ত্রপাতি জব্দ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এ অবৈধ বাণিজ্য নির্মূল করা কঠিন।
অটোরিকশার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসংগতি দৃশ্যমান। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক যানজট, সড়ক বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঢাকায় কেরানীগঞ্জ, বসিলা, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা ও মিরপুরে এ ধরনের যানবাহন তৈরির ওয়ার্কশপের তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন উৎপাদন ও সংযোজনের কার্যক্রম রয়েছে।
অটোরিকশার যন্ত্রাংশের মধ্যে চীন থেকে আমদানি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, কন্ট্রোলার, হর্ন, ব্রেক সিস্টেম এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক উপকরণ। মডেলভেদে মিটার, সুইচ ও কেব্লও আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, দেশে লোহার কাঠামো, বডি, চাকা ও আসন তৈরির পাশাপাশি ব্যাটারি উৎপাদন ও সংযোজনের কার্যক্রমও রয়েছে।
অতএব, সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। অনিরাপদ যানবাহনের অবাধ সংযোজন বন্ধ, অনুমোদনহীন কারখানায় অভিযান এবং যন্ত্রাংশের মান যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে।
জননিরাপত্তা, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উৎপাদন, সংযোজন ও আমদানি বন্ধ করতে হবে এবং মহাসড়ক ও প্রধান নগর সড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করে কার্যকর বিকল্প পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কারেন্ট জালের সব অবৈধ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে উৎপাদন থেকে ব্যবহার পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি অপরিহার্য।
মোঃ কামাল উদ্দিন হাওলাদার
সাবেক সভাপতি
লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব।
























