
স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল হাই বেপারি বাড়ি এলাকায় মৎস্য খামারে কীটনাশক প্রয়োগ করে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি মুরাদ হোসেন। তিনি আবদুল হাই বেপারির ছোট ছেলে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি মুরাদ হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পুকুর লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছেন। মাছের পোনা ও খাদ্য বাকিতে সংগ্রহ করে মাছ বিক্রির পর পাওনা পরিশোধ করাই ছিল তার ব্যবসার মূল পদ্ধতি।
মুরাদ জানান, ধর্মপুর গ্রামের জীবন বাবুর কাছ থেকে তিনি প্রতি বছর বাকিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা কিনে আনেন। পাশাপাশি স্থানীয় মাছের খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও বাকিতে খাদ্য সংগ্রহ করে পুকুরে মাছ চাষ করেন। মাছ বিক্রি করে পর্যায়ক্রমে এসব বকেয়া পরিশোধ করেন তিনি।
কিন্তু মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা তার মৎস্য খামারের পুকুরে কীটনাশক প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করেন মুরাদ। পরদিন বুধবার সকালে পুকুরের পানিতে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। তার দাবি, কীটনাশকের প্রভাবে পুকুরের প্রায় সব মাছ মারা গেছে। এতে তার ৩ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুরাদ হোসেন বলেন, আমার সব শেষ। মাছ চাষ করে ঋণ ও বকেয়া পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল। এখন মাছও নেই, পুঁজি নেই—আমি পথে বসার উপক্রম হয়েছি।
ক্ষতিগ্রস্ত এই মৎস্যচাষি অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার পুকুরে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, পুকুরে নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মাছ নিধনের বিষয়টি আইনগতভাবেও গুরুতর। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি মুরাদ হোসেনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
























